Back to Blogs
একজন ফটোগ্রাফার | Arafat H Shovon Blog

একজন ফটোগ্রাফার | Arafat H Shovon Blog

April 07, 2026

- নতুন ক্যামেরা কিনেছি দুই বছর হতে চলেছে। আগের সেটাপ বদলে সনি নেবার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে বলতে পারেন। কিন্তু আজকাল ফটোগ্রাফির মূল্য নেই! - মূল্য নেই বলছেন কেন? - ঘরে ঘরে এখন ফটোগ্রাফার। যার ক্যামেরা আছে সেই পেইজ খুলে ফটোগ্রাফার হয়ে গেছে। - কিন্তু তাদের সবারতো আপনার মত দামি ক্যামেরা নেই। - ভাই মানুষ ক্যামেরা দেখেনা মানুষ মাগনা আর সস্তা দেখে। - তাহলে আপনি পুরাতন ক্যামেরা বদলে নতুন ক্যামেরা কিভাবে কিনলেন? - মা টাকা দিয়েছিল অবশ্য আমিও কথা দিয়েছিলাম ক্যামেরা কিনে দিলে আর নেশা করবো না। - তো নেশা কি করেন এখনও? - আগের মত করিনা তবে টুক টাক। - তাহলেতো ক্যামেরাও নিলেন আর কথা রাখলেন না। - ভাই বাদই দিছিলাম কিন্তু লাখ টাকার ক্যামেরা কিনেও মানুষকে ফটোগ্রাফি আর ফটোগ্রাফারের গুরুত্ব বোঝাতে পারলাম না। মাগনা ছবি তোলার জন্য ডাকে সবাই কিন্তু টাকা চাইতে গেলে বা প্যাকেজের কথা বলতেই বাজেট থাকেনা। তাই আবার মাঝে ফ্রাসটেইটেড হয়ে পড়েছিলাম। এদিকে বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছি তাই উঠতে বসতে কথা শুনতে হয়। বিচ্ছিরি অবস্থা… - বর্তমানে মাসে কতটাকা ইনকাম করছেন? - ঠিক নেই। কোন মাসে ১০ হাজার আবার কিছু কিছু ফাঁকা। আবার একটা মাসে ৪০হাজার টাকাও ইনকাম হয়েছিল। - তারমানেতো অনেক টাকা! - ভাই ক্যামেরার একটা লেন্সের দাম জানেন? সনির লেন্সের দাম আরও বেশি। একটু টাকা জমলেই নতুন লেন্স কেনার শখ জাগে আবার দেখা যায় লোন করে ফেলেছি কারও কাছ থেকে। বাড়ি থেকে তো আর চাইতে পারিনা। - তাহলে অন্যরা কিভাবে কাজ পাচ্ছে? তাদেরতো আপনার মত ভালো সেটাপও নেই। - ভাই ওরা ক্যামেরাম্যান। ওদেরকে আমি ফটোগ্রাফার মনে করিনা। কারণ Photography is the art of taking and processing pictures. তারমানে ছবি তোলা একটা আর্ট। তার জন্য আর্টিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ওরা একজন ছবি তোলে আর একজনকে দিয়ে এডিট করে। এডিটের মাইরে বাপ সেপেন আপ কালার থাকে। কিছু বিকলঙ্গ ফ্রেম দেখি মাঝে সাঝে। আর সবার কোন না কোন ডিএসএলআর বন্ধু আছেই। তাদেরকে দাওয়াত দিলেই ছবি তোলা ফ্রি। - তাহলে ওরা চলে কিভাবে? ক্যামেরা কেনার টাকাই বা কিভাবে পেল? - ওরাও বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছে ক্যামেরা কিনতে। আর থাকা খাওয়া পেয়ে যায় বাড়ি থেকে যখন তখন পকেট মানি উঠলেই ওরা খুশি। - পকেট মানি কি ওঠে? - দেখেন ওদের ফেসবুকেও প্রচুর মানুষ। তাদেরকে আউটডোরে ছবি তুলে দেয় ৫০০/১০০০ টাকার বিনিময়ে। আর এদিকে ইভেন্ট যারা বুকিং নেয় তারা অনেক সময় ক্লাইন্টরে বোঝায় ২/৩ জন ফটোগ্রাফার কাজ করলে অনেক ভালো ছবি পাবে তারা। এখন কোন কোন ক্লাইন্ট যখন ২/৩ জন ফটোগ্রাফার বুকিং দেয় তখন অনেকের একজন ক্যামেরাম্যান দরকার পড়ে যার গলায় একটা ক্যামেরা ঝুলে থাকলেই চলে। সেদিন তাদের ডাক পড়ে, খাওয়া পায়, আবার ২০০/৫০০ টাকা পকেটে গুঁজে দেয়… - তাহলেতো ফটোগ্রাফারদের খারাপ অবস্থা দেখতেছি… - ক্যামেরা তাই বেঁচে দেব ভাবতেছি। - তারপর কি করবেন? - দেশের বাইরে চলে যাবো। - ওখানে গিয়ে কি করবেন? - যা কাজ পাবো তাই করবো কিন্তু এই দেশে কিচ্ছু হবেনা। - যে মা আপনাকে ক্যামেরা কিনে দিল তার দেওয়া ক্যামেরা বিক্রি করে দিয়ে, তাকে ছেড়ে বিদেশে একা থাকতে পারবেন? - তাছাড়া আর কোন উপায় নেই কারণ রোজ কারও না কারও মা/বাবা/ভাই তাকে ক্যামেরা কিনে দিচ্ছে। এই আমার দুইবছর আগের ক্যামেরা কেনা দেখে কয়েকটা স্কুলে পড়া ছোটভাই কলেজে উঠতে না উঠতেই বাড়ি থেকে ক্যামেরা কিনেছে। ওরাও এখন ফটোগ্রাফার আর আমিও এখন ফটোগ্রাফার… - কিন্তু আপনিতো অভিজ্ঞ। এতবছর ধরে কাজ করছেন। ফটোগ্রাফিতে এত সময় দিয়েছেন তার কি মূল্য নেই… - ক্যামেরা কেনার আগে মনে করতাম লাখ লাখ টাকা দামের ক্যামেরা কিনলেই মূল্য দেবে কিন্তু আসলে মানুষ মূল্য দিতে জানেনা। - মায়ের ছবি তুলেছেন কখনো? - মা ছবি তুলতে চায়না। - ক্যামেরা বেঁচে দেবার আগে মায়ের ছবি তুইলেন একদিন। তারপর ছবিটা সুন্দর করে এডিটিং করে, প্রিন্ট করে মাকে বাঁধিয়ে দিয়েন হাতে। যদি কান্না করে দেয় নিজের ছবি নিজেই দেখে কারণ হয়তো কতগুলো বছর পেরিয়ে গিছে অনুভব করে ধাক্কা খাবে বুকের ভেতর। তখন মাকে জড়িয়ে ধরে বলবেন মা আমি একজন ফটোগ্রাফার। আমি একজন আর্টিষ্ট। শিল্পী যেমন ক্যানভাসে ছবি আঁকে তেমনই আমি চারকোনা ফ্রেমে সময়কে বন্দি করি। ঘরে বসে বন্দি করা সেই ফ্রেমে রঙ করি ঘন্টার পর ঘন্টা যেন চোখের প্রশান্তি নামে। তুমি খুঁজলে অনেক ডাক্তার, উকিল পাবে কিন্তু প্রকৃত ফটোগ্রাফার পাবে হাতে গোনা কয়েকজনকে। আর আমি মনে করি তোমার কিনে দেওয়া ক্যামেরার কারণেই আমি ফটোগ্রাফার হতে পেরেছি। তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্মান, ভালোবাসা। ও আরেকটা কথা মায়ের দেয়া উপহার বিক্রি করে দেশের বাইরে গিয়েও শান্তি পাবেন না নিশ্চিত। - আপনি কি করেন ভাই? - আমিও একজন ফটোগ্রাফার। * Arafat H Shovon