Back to Blogs
বিয়ে বাড়ির গল্প | Arafat H Shovon Blog

বিয়ে বাড়ির গল্প | Arafat H Shovon Blog

April 07, 2026

এইতো সেদিন বিয়ে বাড়িতে একজন ৭/৮ বছরের বাচ্চা ছেলে বায়না ধরেছে বিয়ে করবে! সমস্ত আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ তার খুব ভালো লেগেছে তাই সেও বিয়ে করতে চায়! প্রথমে নাকে কান্না, তারপর মাটিতে গড়িয়ে কান্না, যে কাছে গিয়ে থামাতে চায় তাকেই লাথি, কিল, ঘুষি মারতে শুরু করেছে ততক্ষণে। আমরা পড়লাম বিপদে। স্টেজ ছেড়ে একটু দূরে গিয়ে বিয়ে করার বায়না করলে ছবি তোলা চালিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু সাজানো স্টেজ তার এতটাই পছন্দ যে মোলায়েম সবুজ কার্পেটের উপর সমানে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না করছে! একটু পর একজন তাকে আর সহ্য করতে না পেরে এবং এই বয়সে বিয়ের আবদার পূরণ করতে না পেরে জাপটা কোলে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বাইরে। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে কাটা মাছের মত মুচড়াতে দেখেছিলাম। অবশ্য পরে দেখেছিলাম একটা মুরগির রোষ্ট মন দিয়ে খেতে। মা মিষ্টি হেসে বলেছিল “ওর রোষ্ট খুব পছন্দ।” আমি বললাম- আরেকটা খাবে বাবু? আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটা অবজ্ঞার মুখভঙ্গি করলো যে মনে মনে ভেবেছিলাম- যদি আমার আত্বীয়ের কেউ হতিস তাইলে তোরে কাঁচা খেয়ে ফেলতাম। ৭/৮ বছরের ছেলের বিয়ের আয়োজন দেখে বিয়ে করতে চাওয়ার আবদার যেমন পূরণ অযোগ্য তেমনই আপনার সন্তানের ক্যামেরা, বাইক, পিসি, ফোন কেনার আবদারও যদি পূরণ অযোগ্য হয় তবে শাসন করুন। চাহিবা মাত্র দিতে থাকলে আপনার সন্তান বিপথে যাবে। আমার কাছে কিছু অভিভাবক নালিশ করে বলেন তাদের সন্তান বাসায় অশান্তি করছে ক্যামেরা, বাইক, পিসি, ফোন কিনে দেবার জন্য। আমি সবসময় তাদেরকে বলি যেহেতু আপনি আমার কাছে নালিশ জানাচ্ছেন তার মানে আপনার সন্তান ইতিমধ্যে অবাধ্য এবং যার পরিণতি ভয়াভয়। অভাব দেখা ও মেনে নেওয়া প্রয়োজন আছে। পরিবার যেভাবে সন্তানকে মানুষ করে তার বাইরেও একটা জগত আছে। তাদের কে সে জগতের সঠিক ধারণা না দিলে তারা অথই সাগরে গিয়ে আছড়ে পড়বে। তাদেরকে নিজেদের শখ নিজেদের পূরণ করতে হয় এমন শিক্ষা দিন। পরিবারে এমন কাউকে রাখুন যে চ্যাঙ দোলা দিয়ে তুলে নিয়ে টেবিলে বসাতে পারে এবং আপনি মমতা দিয়ে রোষ্ট রান্না করে খাওয়াতে পারেন- তারা যেন আপনাদের অবদান ভুলে না যায়। রোষ্ট রান্না করে যে আপনি তাকে লেগ পিছ তুলে দিচ্ছেন এটাও এক প্রকার সেকরিফাইছ তা তাকে বুঝতে ও জানতে হবে। সম্মান করা, নম্র ব্যবহার এগুলো পারিবারিক শিক্ষা। তাই আপনার সন্তানের সমস্ত আবদার পূরণের আগে সচেতন হোন এবং নিজেদের শখ নিজেরা পূরণ করতে হয় এই শিক্ষা দিন। নয়তো ওরা এই কঠিন, সেলফিশ পৃথিবী একসময় ঘৃণা করতে শুরু করবে এবং আত্বহত্যাকে শেষ অবলম্বন মনে করবে। যারা অভাব দেখেনি তারাই আবদার করে। নিশ্চয় আপনার পেছনে যদি ক্ষুধার্ত বাঘ ছেড়ে দেওয়া হয় তখনই আপনি বাঁচার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাদেরকে বাঁচতে শেখান এবং সব আবদার পূরণের আগে ভবিষ্যত ভাবুন। মনে রাখবেন- মা-বাবা হয়ে আপনারা যা পারবেন না একজন বাইরের মানুষও তা পারবেনা। আপনারা যাকে জন্মের পর থেকে চেনেন তাদের অবাধ্য সন্তান সাময়িক পরিচিত যার প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে তা কেবল তার আবদার পূরণের নতুন কৌশল। - Arafat H Shovon